দলের

মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪

শেরপুরের নালিতাবাড়ী গারো পাহাড়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন


মো:মঞ্জুরুল আহসান:
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা সীমান্তে গারো পাহাড় খুঁড়ে,শ্যালো ইঞ্জিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে অবাধে কাঁচ (সাদা) বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাহাড় থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষেধ থাকা সত্বেও এক শ্রেণির অসাধু লোক বালু উত্তোলন করছে অনায়াসে।
নির্বিচারে পাহাড় খোঁড়াখুঁড়ি ও শ্যালো ইঞ্জিনের বিকট শব্দে জীবজন্তুর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,সারা বছর ধরে চলে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা,কালাপানি,বাতকুচি ও মধুটিলা পাহাড়ে একটি সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন করছে । এর সঙ্গে সমশ্চুড়া গ্রামের শামসুল আলম ,বুরুঙ্গা গ্রামের হারুণ আর রশিদ,রফিকুল ইসলাম,এরশাদ আলী,আফছার আলী,কালাপানি গ্রামের রমজান আলী ও মধুটিলা গ্রামের হাম্বিলা জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে সমশ্চুড়া পাহাড়ের কালাপানি এলাকায় ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর গর্ত করে পার্শ্বে শ্যালো ইঞ্জিন বসিয়ে পাহাড়ের জুড়ার পানি ব্যবহার করে পাইপের মাধ্যমে কাঁচ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
শ্রমিকরা জানান,মেশিন মালিকের নির্দেশে বালু তোলার কাজ চলছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ট্রাক বালু পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৪০০ ঘনফুট বালু ধরে,যার দাম আড়াই হাজার টাকা।
বালু উত্তোলনকারী মেশিন মালিক আফছার আলী জানান, সারা দিনে ১০/১২জন শ্রমিক মিলে প্রায় এক হাজার ২০০ ঘন ফুট বালু তুলতে পারে। এতে সাত থেকে আট লিটার ডিজেল লাগে। সব খরচ শেষে খুব বেশি লাভ হয না।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় এই গারো পাহাড় ছিল প্রকৃতির সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাণিকুলের আবাসস্থল। নানা প্রকার পশু পাখির অভায়ারাণ্যে ছিল গভীরজঙ্গলে পরিপূর্ণ। প্রকৃতি ধ্বংসকারী মানুষ পাহাড়ের গাছপালা, বনজঙ্গল কেটে, পাহাড় খুঁড়ে পাথর ও বালু উত্তোলন করে স্রষ্টার অপরুপ সৃষ্টিরও ক্ষতি সাধন করছে। ফলে দারুনভাবে পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন