মানুষের শরীর এক রহস্যময় সৃষ্টি। উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে আমরা ভেবে থাকি নিজেদের শরীরের ব্যাপারে আমরা সব কিছুই জানি। কিন্তু সেটা সত্যি না মোটেই। এখনও বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীরের ব্যাপারে অদ্ভুত অদ্ভুত সব তথ্য বের করছেন। আমাদের অতি পরিচিত এই শরীর যে আসলে কতটা অদ্ভুত আর অজানা, ছোটখাটো কিছু অঙ্গের বর্ণনা শুনলেই তা বোঝা যায়। যেমন, আপনি কি জানেন আপনার ওপরের ঠোঁটের মাঝে যে একটি ভাঁজ, তারও একটি নাম আছে? এমন আরও কতগুলো অজানা অঙ্গের ফিরিস্তি শুনে নিন এখনি।
হাঁটুর মাঝে কিছু একটা
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের দেহ কাটাছেঁড়া করার পরেও অনেক কিছু বিজ্ঞানীদের অগোচরে থেকে গেছে। মাত্র গত নভেম্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে মানুষের হাঁটুতে নতুন একটি লিগামেন্ট। ১৮৭৯ সালে এই লিগামেন্টের উপস্থিতির কথা ধারনা করা হয় কিন্তু তখন এর অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হয় নি।
দুয়া’র স্তর
এমন আর একটি নতুন আবিষ্কৃত অঙ্গ হলো মানুষের চোখের কর্নিয়ার ভেতরে থাকা দুয়া’স লেয়ার। চোখের ভেতরে থাকা মাত্র ১৫ মাইক্রন পুরু দৃঢ় এই স্তর চোখের কোনো জটিলতা বা রোগের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে কিনা, তা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
অতিরিক্ত পাঁজরের হাড়
মানুষের শরীরে একেক দিকে ১২ টা করে পাঁজরের হাড় থাকে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের থাকতে পারে একটি অতিরিক্ত পাঁজরের হাড় এবং এর থেকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অতিরিক্ত হাড়টিকে বলা হয় সার্ভিক্যাল রইব এবং ০.০৫ থেকে ৩ শতাংশ মানুষের মাঝে এটি দেখা যায়। কলারবোনের ওপরে কাঁধের কাছে এই হাড় জন্মে থাকে। এতই বেশিরভাগ সময়েই পুরোপুরিভাবে গঠিত হয় না বরং একটি টিস্যুর স্তর হিসেবে থাকে। কাছাকাছি স্থাপিত রক্তনালিকা অথবা স্নায়ু চাপ দিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে পারে এই হাড়। তখন ঘাড়ে ব্যাথা বা রক্ত জমাট বেঁধে থাকার উপসর্গ দেখা যায়।
কান নাড়ানোর পেশি
কুকুর এবং বিড়াল যেভাবে কান নাড়ায় কিছু মানুষও কিন্তু সেভাবে কান নাড়াতে পারে! একগুচ্ছ পেশি এর জন্য দায়ী। আমাদের সবার কানেই এই পেশি থাকে কিন্তু সবাই তা ব্যবহার করে কান নাড়াতে পারে না। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ তা পারে।
কিউটিকল
আমাদের হাতের আঙ্গুল এবং নখের সংযোগস্থলে থাকা এই ত্বকের স্তর মনে হতে পারে শুধু শুধুই আছে। কিন্তু শরীরে এর অনেক বড় উপকারিতা আছে। শরীরে ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে বাধা প্রদান করে থাকে এই ত্বকের স্তর।
ভাসমান হাইঅয়েড হাড়
মানুষের মোটামুটি সব হাড়ই অন্য হাড়গুলোর সাথে যুক্তও, তাই না। কিন্তু এমন একটি হাড় আছে যা অন্য কোনো হাড়ের সাথে যুক্ত নয়। এটাই হলো ঘোড়ার খুরের মত আকৃতির হাইঅয়েড হাড়, যা আমাদের কথা বলতে সাহায্য করে।
টেইলবোন
আমাদের মেরুদণ্ডের একেবারে শেষের হাড় টেইলবোন। কশেরুকা একটির সাথে আরেকটি মিলে তৈরি করে টেইলবোন। অনেক সময়ে এই টেইলবোন বর্ধিত হয়ে আসলেই লেজের মত একটি অংশ তৈরি করতে পারে। এখন তা চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারণ করা যায়। কিন্তু প্রাচীনকালে তাকে শয়তানের সংযোগ হিসেবে ধরা হত এমব মা ও শিশু উভয়কেই মেরে ফেলা হত।
উধাও হয়ে যাওয়া হাড়
ছোটবেলায় আপনার শরীরে যত হাড় ছিলো, বড় হয়ে তা কমে যায়। না, ঠাট্টা করে বলা হচ্ছে না। আমরা জীবন শুরু করি ৩৫০ টি হাড় নিয়ে বড় হতে হতে কিছু হাড় একসাথে মিলে যায়। ফলে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে মাত্র ২০৬ টা হাড় নিয়ে বেচে থাকি।
নতুন করে জন্ম নেওয়া পাকস্থলী
এটা বলা যেতে পারে যে, আমাদের পাকস্থলী প্রতি ৩/৪ দিন পর পর নতুন করে তৈরি হয়। অবাক হচ্ছেন? আমাদের পাকস্থলীর দেয়াল প্রতিনিয়ত নতুন কোষ দিয়ে তৈরি হতে থাকে যাতে নিজের এসিডে নিজেই গলে না যায়।
ফিলট্রাম
আপনার ওপরের ঠোঁটের দিকে লক্ষ্য করুন তো। ঠোঁটের মাঝে একটি ভাঁজ লক্ষ্য করতে পারছেন? একেই বলে ফিলট্রাম। কিছু কিছু প্রাণী একে ব্যবহার করে নাক ভেজা রাখার জন্য। কিন্তু মানুষের শরীরে এক কোনো কাজ আসলেই নেই। তবে এই ঠোঁটের অস্বাভাবিক গঠন থেকে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ বোঝা যায় এমনকি অটিজম জাতীয় রোগের সাথেও এর সংযোগ পাওয়া যায়।
মানুষের শরীর এক রহস্যময় সৃষ্টি। উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে আমরা ভেবে থাকি নিজেদের শরীরের ব্যাপারে আমরা সব কিছুই জানি। কিন্তু সেটা সত্যি না মোটেই। এখনও বিজ্ঞানীরা মানুষের শরীরের ব্যাপারে অদ্ভুত অদ্ভুত সব তথ্য বের করছেন। আমাদের অতি পরিচিত এই শরীর যে আসলে কতটা অদ্ভুত আর অজানা, ছোটখাটো কিছু অঙ্গের বর্ণনা শুনলেই তা বোঝা যায়। যেমন, আপনি কি জানেন আপনার ওপরের ঠোঁটের মাঝে যে একটি ভাঁজ, তারও একটি নাম আছে? এমন আরও কতগুলো অজানা অঙ্গের ফিরিস্তি শুনে নিন এখনি।
হাঁটুর মাঝে কিছু একটা
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের দেহ কাটাছেঁড়া করার পরেও অনেক কিছু বিজ্ঞানীদের অগোচরে থেকে গেছে। মাত্র গত নভেম্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে মানুষের হাঁটুতে নতুন একটি লিগামেন্ট। ১৮৭৯ সালে এই লিগামেন্টের উপস্থিতির কথা ধারনা করা হয় কিন্তু তখন এর অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হয় নি।
দুয়া’র স্তর
এমন আর একটি নতুন আবিষ্কৃত অঙ্গ হলো মানুষের চোখের কর্নিয়ার ভেতরে থাকা দুয়া’স লেয়ার। চোখের ভেতরে থাকা মাত্র ১৫ মাইক্রন পুরু দৃঢ় এই স্তর চোখের কোনো জটিলতা বা রোগের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে কিনা, তা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
অতিরিক্ত পাঁজরের হাড়
মানুষের শরীরে একেক দিকে ১২ টা করে পাঁজরের হাড় থাকে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের থাকতে পারে একটি অতিরিক্ত পাঁজরের হাড় এবং এর থেকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অতিরিক্ত হাড়টিকে বলা হয় সার্ভিক্যাল রইব এবং ০.০৫ থেকে ৩ শতাংশ মানুষের মাঝে এটি দেখা যায়। কলারবোনের ওপরে কাঁধের কাছে এই হাড় জন্মে থাকে। এতই বেশিরভাগ সময়েই পুরোপুরিভাবে গঠিত হয় না বরং একটি টিস্যুর স্তর হিসেবে থাকে। কাছাকাছি স্থাপিত রক্তনালিকা অথবা স্নায়ু চাপ দিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে পারে এই হাড়। তখন ঘাড়ে ব্যাথা বা রক্ত জমাট বেঁধে থাকার উপসর্গ দেখা যায়।
কান নাড়ানোর পেশি
কুকুর এবং বিড়াল যেভাবে কান নাড়ায় কিছু মানুষও কিন্তু সেভাবে কান নাড়াতে পারে! একগুচ্ছ পেশি এর জন্য দায়ী। আমাদের সবার কানেই এই পেশি থাকে কিন্তু সবাই তা ব্যবহার করে কান নাড়াতে পারে না। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ তা পারে।
কিউটিকল
আমাদের হাতের আঙ্গুল এবং নখের সংযোগস্থলে থাকা এই ত্বকের স্তর মনে হতে পারে শুধু শুধুই আছে। কিন্তু শরীরে এর অনেক বড় উপকারিতা আছে। শরীরে ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে বাধা প্রদান করে থাকে এই ত্বকের স্তর।
ভাসমান হাইঅয়েড হাড়
মানুষের মোটামুটি সব হাড়ই অন্য হাড়গুলোর সাথে যুক্তও, তাই না। কিন্তু এমন একটি হাড় আছে যা অন্য কোনো হাড়ের সাথে যুক্ত নয়। এটাই হলো ঘোড়ার খুরের মত আকৃতির হাইঅয়েড হাড়, যা আমাদের কথা বলতে সাহায্য করে।
টেইলবোন
আমাদের মেরুদণ্ডের একেবারে শেষের হাড় টেইলবোন। কশেরুকা একটির সাথে আরেকটি মিলে তৈরি করে টেইলবোন। অনেক সময়ে এই টেইলবোন বর্ধিত হয়ে আসলেই লেজের মত একটি অংশ তৈরি করতে পারে। এখন তা চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারণ করা যায়। কিন্তু প্রাচীনকালে তাকে শয়তানের সংযোগ হিসেবে ধরা হত এমব মা ও শিশু উভয়কেই মেরে ফেলা হত।
উধাও হয়ে যাওয়া হাড়
ছোটবেলায় আপনার শরীরে যত হাড় ছিলো, বড় হয়ে তা কমে যায়। না, ঠাট্টা করে বলা হচ্ছে না। আমরা জীবন শুরু করি ৩৫০ টি হাড় নিয়ে বড় হতে হতে কিছু হাড় একসাথে মিলে যায়। ফলে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে মাত্র ২০৬ টা হাড় নিয়ে বেচে থাকি।
নতুন করে জন্ম নেওয়া পাকস্থলী
এটা বলা যেতে পারে যে, আমাদের পাকস্থলী প্রতি ৩/৪ দিন পর পর নতুন করে তৈরি হয়। অবাক হচ্ছেন? আমাদের পাকস্থলীর দেয়াল প্রতিনিয়ত নতুন কোষ দিয়ে তৈরি হতে থাকে যাতে নিজের এসিডে নিজেই গলে না যায়।
ফিলট্রাম
আপনার ওপরের ঠোঁটের দিকে লক্ষ্য করুন তো। ঠোঁটের মাঝে একটি ভাঁজ লক্ষ্য করতে পারছেন? একেই বলে ফিলট্রাম। কিছু কিছু প্রাণী একে ব্যবহার করে নাক ভেজা রাখার জন্য। কিন্তু মানুষের শরীরে এক কোনো কাজ আসলেই নেই। তবে এই ঠোঁটের অস্বাভাবিক গঠন থেকে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ বোঝা যায় এমনকি অটিজম জাতীয় রোগের সাথেও এর সংযোগ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন