দলের

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

আনন্দ স্কুলের উপবৃত্তি আতœসাৎ শ্রীবরদীতে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মিছিল

শ্রীবরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম
শ্রীবরদীতে আনন্দ স্কুলের উপবৃত্তি ও পোষাক ভাতা না পেয়ে মিছিল করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। সোমবার দুপুরে উপবৃত্তির টাকা আতœসাতের প্রতিবাদে মিছিল শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভূক্তভোগীরা।
জানা গেছে, শ্রীবরদীতে ২০১১ সালে নতুন করে ৬৬ টি স্কুল অনুমোদন পায়। এ স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের জুন থেকে ডিসেম্বরের শিক্ষা ও পোষাক ভাতা বাবদ স্কুলপ্রতি ২১ হাজার টাকা করে অনুদান আসে। নিয়মানুযায়ী সোনালী ব্যাংক সহায়তাকারী এনজিও আহছানিয়া মিশনের প্রতিনিধি ও শিক্ষা অফিস প্রতিনিধির উপস্থিতিতে স্কুলে গিয়ে অথবা ক্যাম্প করে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের হাতে এ টাকা তুলে দেবে। কিন্তু শ্রীবরদীতে চলছে এর উল্টো। কতিপয় লোক নিজেদের উপবৃত্তি বিতরন কমিটির লোক পরিচয়ে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় উপবৃত্তি বিতরন না করে হাতিয়ে নিচ্ছে এ টাকা। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত ৮ জানুয়ারী মামদামরারী শেখপাড়া আনন্দ স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি বিতরনের কথা। সে অনুযায়ী ব্যাংক থেকে টাকাও উত্তোলন করা হয়। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার শওকত আলী, ব্যাংক কর্মচারী আঃ জলিল, শ্রীবরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান খায়ের মুন্সী ও শিক্ষা কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন চান মাষ্টার ওক্ত টাকা স্কুলে গিয়ে বিতরন না করে ওই স্কুলের শিক্ষক সোলায়মানের হাতে কমিশনের ভিত্তিতে তুলে দেয়। এ নিয়ে আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী ও তাদের মারা রবিবার শ্রীবরদী পৌর শহরে মিছিল করে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এ উপজেলার ২০০৭ ও ২০০৮ সালের ১৩০ টি আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও পোষাক ভাতার টাকা অর্ধেক তোমার অর্ধেক আমার ভিত্তিতে ভাগ করে নেয় ব্যাংক ও আনন্দ স্কুল শিক্ষকরা। এ নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুলশান আরা একটি তদন্ত কমিটি করে উপবৃত্তি বিতরনের নির্দেশ দিলেও ব্যাংক ও ওই কমিটির লোকজন তাদের লুটপাট অব্যহত রাখে। মিছিলে অংশগ্রহণ করা অভিভাবকরা জানায়, এর আগে ছাত্রভর্তির সময়ও শিক্ষক ছাত্রপ্রতি ৫০০/ ৬০০ টাকা ভর্তি ফি বাবদ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার শওকত আলী জানান, উপবৃত্তির জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান খায়ের মুন্সী, তোফাজ্জল হোসেন চাঁন মাষ্টার ও আমিরুল কে সদস্য করে একটি কমিটি করে দিয়েছেন। সে কমিটি ও ব্যাংক প্রতিনিধি স্কুলে গিয়ে উপবৃত্তির টাকা বিতরনের জন্য ৮ জানুয়ারী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছে। কোন অনিয়ম করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুলশান আরা আনন্দ স্কুলের উপবৃত্তি বিতরনের অনীয়মের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ব্্যাপারে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ টি আনন্দ স্কুলের উপবৃত্তি বিতরনের জন্য আমি নিজে একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাংক তাদের মনগড়াভাবে উপবৃত্তি বিতরন করছে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন